The FindingsThe Findings

The Findings

The FindingsThe Findings

© The Findings. All rights reserved.

আমাদের অনুসরণ করুন
FacebookTwitterLinkedInYoutube
ডিজিটাল ইনভেস্টিগেশন

যেভাবে আলোচনায় এসে ডিজিটাল আক্রমণের শিকার ঢাবি শিক্ষিকা মোনামী

The Findings
The Findings৫ নভেম্বর, ২০২৫
যেভাবে আলোচনায় এসে ডিজিটাল আক্রমণের শিকার ঢাবি শিক্ষিকা মোনামী

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষক ও সহকারী প্রক্টর শেহরিন আমিন ভুঁইয়া, সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক মাধ্যমের বহুল আলোচিত একটি নাম। তার অন্য নাম ‘মোনামী’ নামেও পরিচিত তিনি।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে এই শিক্ষককে ঘিরে ফেসবুকসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে চলছে আলোচনা ও বিতর্ক। গঠনমূলক সমালোচনার সীমানা ছাড়িয়ে ঢাবির এই শিক্ষককে ঘিরে দেখা যায় সমন্বিত ডিজিটাল আক্রমণ, যেখানে যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য, অশালীন কনটেন্ট এবং চরিত্রহননের প্রচেষ্টা লক্ষ্য করা গেছে। বিভিন্ন পেজ ও প্রোফাইল থেকে এই শিক্ষিকার নামে ছড়ানো হয়েছে ভুয়া ও এআই-জেনারেটেড অশালীন ছবি, তৈরি করা হয়েছে বিকৃত কনটেন্ট।

ভুয়া ছবি ও অশালীন কনটেন্ট ছড়ানোর প্রেক্ষিতে শেহরিন আমিন ভুঁইয়া সম্প্রতি থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন, যেখানে তিনি চারজনকে আসামি করেছেন।

আজকের পর্বে দা ফাইন্ডিংস তুলে ধরছে শেহরিন আমিন ভুঁইয়া কিভাবে আলোচনায় ও বিতর্কে এলেন এবং কিভাবে অনলাইনে আক্রমণ ও ভুয়া তথ্যের শিকার হচ্ছেন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে পুলিশের হাত থেকে শিক্ষার্থীকে বাঁচতে গিয়ে আহত হয়ে আলোচনায়

৩১ জুলাই, জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালে সামাজিক মাধ্যমে একটি দৃশ্য ভাইরাল হয়, যেখানে পুলিশ ঢাবি এলাকায় এক শিক্ষার্থীকে আটক করেছেন এবং একজন ঢাবি শিক্ষক সেই শিক্ষার্থীকে বাঁচানোর চেষ্টা করছেন। শিক্ষক পুলিশের সঙ্গে একরকম লড়াই করছেন এবং ঢাল হয়ে দাঁড়িয়ে ওই শিক্ষার্থীকে রক্ষার চেষ্টা করছেন। এই দৃশ্য সেসময় ব্যাপকভাবে ছড়িয়েছিল। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকা ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ওই শিক্ষার্থীকে পুলিশের হাত থেকে বাঁচাতে গিয়ে আহত হয়েছিলেন সেই শিক্ষক। ওই শিক্ষকই ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগের বর্তমান আলোচিত শিক্ষক শেহরিন আমিন ভুঁইয়া।

এই ঘটনার ওপর সেসময়ের এক পোস্টে লেখা হয়, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের আমার শিক্ষক Shehreen Amin Monami ম্যাম পুলিশের আক্রমণে আহত হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে!

দোয়েল চত্বর ও হাইকোর্টের মাঝামাঝি যায়গায় এক ছাত্রকে ধরে নিয়ে যাবার সময় নুসরাত ম্যাম ও মোনামী ম্যাম বাধা দিলে পুলিশের সাথে তর্ক বির্তক চলতে থাকে এবং ম্যামরা ছেলেটিকে তাদের সামনে চেক করতে বলেন যেহুতু এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা এবং তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। এই অবস্থায় এক পুলিশ সদস্য জোরপূর্বক শারীরিক শক্তি প্রয়োগ করে এবং ম্যামের হাত মোচড় দিয়ে ছেলেটিকে টেনে নিয়ে যাবার চেষ্টা করে। এই পর্যায়ে ম্যামকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয় এবং ম্যাম আহত হন। ম্যাম হাতে হাটুতে এবং পায়ে আঘাত পেয়েছেন। ধস্তাধস্তি করে পুলিশ ছেলেটিকে ধরে নিয়ে যায়।..”

৩১ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ‘Remembering the Heroes’ কর্মসূচি ঘোষণায ও এই ঘটনাটি উল্লেখ করা হয়।

ছবিতে ঢাবি শিক্ষিকা শেহরিন আমিন ভুঁইয়া মোনামী

‘যদি মুহি শিবির হয়ে থাকে তাহলে শিবির ভালো’ ফেসবুক মন্তব্য থেকে ফের আলোচনায়

৫ আগস্ট হাসিনা সরকারের পতনের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা শিবিরের সভাপতি এবং সেক্রেটারি প্রকাশ্যে আসেন। একই ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা শিবিরের সাংগঠনিক সম্পাদকের নাম প্রকাশ্যে আসে। তিনি হলেন ঢাবির লোকপ্রশাসন বিভাগের ২০১৮-১৯ সেশনের শিক্ষার্থী মোঃ মহিউদ্দিন খান। 

মহিউদ্দিন খান অনার্সে ৩.৯৩ সিজিপিএ নিয়ে এককভাবে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম এবং মাস্টার্সে ৩.৯৭ সিজিপিএ নিয়ে প্রথম হন।

একই বিভাগের হওয়ায় মহিউদ্দিন খান শেহরিন আমিন ভুঁইয়ার সরাসরি ছাত্র। গত ১ অক্টোবর ঢাবি শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে মহিউদ্দিন খান এর নাম আসার পর একটি পোস্টে একই বিভাগের শিক্ষক শেহরিন আমিন ভুঁইয়া তার প্রশংসা করে ‘যদি মুহি শিবির হয়ে থাকে তাহলে শিবির ভালো’ মন্তব্যটি করেন। 

একটি ফেসবুক পোস্টের মন্তব্যে তিনি লেখেন— “Amader mohi ?! Jodi mohi shibir hoye thake…Tahole shibir bhalo … (because I have always known him to be an excellent sober, mannered and studious boy)?”

এটি তার বিস্ময়ের সাথে করা একটি “ক্যাজুয়াল” মন্তব্য হলেও সেসময় এটির ‘ডিজিটাল এম্পলিফিকেশন’ ঘটে এবং মন্তব্যটি ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এটি নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়।

‘ক্যাজুয়াল’ মন্তব্যটি ভাইরাল হলে এবং ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হলে, সেসময় শেহরিন আমিন ভুঁইয়া মোনামি বিষয়টি ব্যাখ্যা করে ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন।

পোস্টে তিনি লেখেন, “সম্প্রতি আমার একটা বক্তব্য নিয়ে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে আমি আমার দিক থেকে বিষয়টা ব্যাখ্যা করার তাগিদ অনুভব করছি। আমার কোনো শিক্ষার্থী কী সংগঠন করে বা কোন মতাদর্শের সেটা আমার কাছে কখনও মুখ্য নয়। আমি ওটা নিয়ে কোনো চিন্তাও করিনা। ব্যক্তিগতভাবে আমি নিজেও কোনো রাজনৈতিক দল বা সংগঠনের সাথে জড়িত নই। আমি আশা করবো এবং সেই সাথে অনুরোধও যেনো আমার কোনো বক্তব্যকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা না হয়। কারণ একজনের লিখিত কমেন্ট/শব্দ/বক্তব্য চাইলেই যেকোন ভাবে উপস্থাপন করা যায়। আমি চাইবো আমাকে যারা জানেন, চেনেন তারা যেনো বিভ্রান্ত না হয়। ধন্যবাদ।”

আরেক কমেন্টে তিনি লিখেছিলেন— “আমার মনে হয় এখানে একটু ভুল হচ্ছে। আমি এরকম কিছু বুঝাইনি। আমার কোনো শিক্ষার্থী কী সংগঠন করে বা কোন্ মতাদর্শের সেটা আমার কাছে কখনও মুখ্য নয়। আমি ওটা নিয়ে কোনো চিন্তাও করিনা। আমি শুধু মানুষ হিসেবে, আমার শিক্ষার্থী হিসেবে মহিউদ্দিন কে জানি; আমি আশা করি ওর দ্বারা অন্য কারও ক্ষতি হবেনা, অন্য কারও অধিকার খর্ব হবেনা।

My earnest request, Please do NOT spread any misinformation and misinterpret my words. Thanks.”

শেহরিন আমিন ভুঁইয়ার মন্তব্যটি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয় এবং তিনি জামায়াত-শিবির কর্মীদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। একই সময়ে তার ফেসবুক ফলোয়ারও দ্রুত বৃদ্ধি পায়।

এই ঘটনার পর থেকেই শেহরিন আমিন ভুঁইয়া মূলত জামায়াত-শিবির সমর্থকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। একইভাবে ওই মন্তব্যের জন্য তিনি অন্যদের কাছে কিছুটা ‘তেতো’ হয়ে ওঠেন। ৫ আগস্টের পর এই ‘ক্যাজুয়াল’ মন্তব্য আবারও তাকে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনায় নিয়ে আসে।

ডাকসু নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ছাত্রদলের বাকবিতণ্ডার মুখোমুখি, আবার আলোচনায়

গত ৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনে সহকারী প্রক্টর হিসেবে নির্বাচনী কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেন লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া মোনামি। দায়িত্ব পালনের সময় টিএসসি কেন্দ্রে তিনি ছাত্রদলের তোপের মুখে পড়েন। পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তার সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। ভাইরাল ভিডিওতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন, ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের জিএস প্রার্থী তানভীর বারী হামীমসহ ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার বাদানুবাদ করতে দেখা যায়।

ঘটনার প্রেক্ষিতে অনলাইনেও তিনি আক্রমণের শিকার হন। রাজ্জাক মুনশি নামের একজন বিএনপি কর্মী শেহরীন আমিন মোনামির বাকবিতণ্ডার সময়কার একটি ছবি যুক্ত করে ফেসবুকে লেখেন, “শিবিরের এই মাগীর হেডায় মরিচের গুঁড়া লাগিয়ে দেওয়া হোক। এরকম পক্ষপাতমূলক মাগীরা রিটার্নিং কর্মকর্তা হয় কিভাবে? ৩৬ পৃষ্ঠার অযোগ্য আচোদা ভিসি।”

একই দিনে তিনি তার পোশাক নিয়েও অনলাইনে আক্রমণের শিকার হন। তার দায়িত্ব পালনের কয়েকটি ছবি যুক্ত করে “তিনি একজন শিক্ষক। শিক্ষকের পোশাক যদি এমন হয় তাহলে পোলাপান কিভাবে ঠিক থাকবে বলেন” শিরোনামে সেদিন ফেসবুকে বেশকিছু পোস্ট হয়। এসব পোস্টের কমেন্টেও যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ অশালীন মন্তব্য দেখা যায়।

ঢাবি শিক্ষিকা মোনামীকে স্লাট শেমিং করে দেয়া কিছু পোস্ট

ডাকসু ভোটের দিন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অফিসিয়াল ফেসবুক গ্রুপে কমুনা টিভি নামের একটি পেজ থেকে একটি ফটোকার্ড পোস্ট করা হয়, যেখানে ডাকসুর এজিএস মহিউদ্দিন খান এবং শিক্ষক শেহরীন আমিন মোনামির ছবি ব্যবহার করে শিরোনাম দেওয়া হয়— “নিজের পরকীয়া প্রেমিক শিবিরের প্রার্থী মুহিকে জেতানোর জন্য কারচুপি করছে ঢাবি শিক্ষিকা মোনামি।”

ভোটের দিন এবং এর পরবর্তী সময়ে ঢাবির এই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনলাইনে আক্রমণ বৃদ্ধি পায়। বিভিন্ন এডিটেড ছবি প্রচার করা হয়। বেশিরভাগ আক্রমণই যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ ছিল।

ঘটনার পর নিজের অবস্থান ও কষ্টের কথা ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে জানান এই শিক্ষিকা। তিনি লিখেছেন— “আমি গত আগস্টে সহকারী প্রক্টর হিসেবে যোগ দিই। একটাই কারণ ছিল, জুলাইকে আমি ভীষণ আপন মনে করি এবং আমার আলমা মেটারের (প্রিয় শিক্ষাঙ্গন) জন্য কিছু ভালো কাজ বা অবদান রাখতে পারি, তা হয়তো এই ভূমিকার মাধ্যমেই সম্ভব। আমি শুধু একটাই চেয়েছি, একজন শিক্ষক হতে! আমার কোনো প্রশাসনিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা নেই, নেই কোনো রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষাও। কিন্তু আজ আমি এখানে, অভিযোগে অভিযুক্ত, হয়রানির শিকার (নিজ ক্যাম্পাসে এবং অনলাইনেও)।

আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো আমাকে কষ্ট দিয়েছে ঠিকই, কিন্তু আমি জানি আমি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ছিলাম। প্রথমত, আমি নিরাপত্তা ইনচার্জ ছিলাম। তাই ভুল অপবাদ দেওয়ার আগে তা জানা উচিত। দ্বিতীয়ত, নির্বাচন আচরণবিধি কেন প্রার্থীরা বারবার লঙ্ঘন করছিল? তোমরা কি তা জানোনি? আমি আমার নির্দেশনায় কঠোর ছিলাম এবং এতে কোনো অনুশোচনা নেই। আমি সঠিক কাজটাই করেছি, আমি দায়িত্বে ছিলাম।

[…] আমি এই কষ্ট কোনোদিন ভুলব না। আমি ছাত্রলীগকে ভয় করিনি। আমি কাউকেই ভয় করি না, কারণ সত্য আমার পক্ষে। তবু আমি চুপচাপ ফিরে এসেছি, কারণ আমি চাইনি আমার কারণে নির্বাচন ব্যাহত হোক।”

শেহরীন আমিন মোনামীকে ঘিরে যত ভুয়া ছবি-তথ্য, অপপ্রচারে চরিত্রহননের চেষ্টা

ঢাবি শিবির নেতা ও নিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মহিউদ্দিন খানকে নিয়ে “যদি মুহি শিবির হয়ে থাকে তাহলে শিবির ভালো” — এই ফেসবুক মন্তব্য এবং ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে ‘পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ’ আসার পর অনলাইনে তিনি বিএনপি সমর্থকদের আক্রমণের শিকার হন এবং অপরদিকে ছাত্রশিবির সমর্থকদের সমর্থন পান।

মূলত এই দুই বিষয় মিলিয়ে এই শিক্ষককে অনলাইনে ‘শিবির সিমপাথাইজার’ হিসেবে উপস্থাপন করে আক্রমণ করা হয়। এক্ষেত্রে বিএনপি সমর্থক এবং পাশাপাশি আওয়ামী লীগ সমর্থকদেরও সক্রিয় থাকতে দেখা যায়। ডাকসু নির্বাচনের পর এই শিক্ষককে ঘিরে অনলাইন আক্রমণ বৃদ্ধি পায়। এ সময় তার নামে বিভিন্ন এডিটেড, এআই-জেনারেটেড বা ভুয়া ছবি প্রচার করা হয়।

চরিত্রহননের চেষ্টায় শেহরীন আমিন মোনামীকে জড়িয়ে প্রচারিত ভুয়া তথ্যগুলো থাকছে এই অংশে:

— ঢাবি শিক্ষক শেহরীন আমিন মোনামী ও ডাকসুর এজিএস মহিউদ্দিন খানের ছবি সম্পাদনা করে অপপ্রচার

একটি ছবিতে দেখা যায়, দাঁড়ানো অবস্থায় এজিএস মহিউদ্দিনের বুকে মাথা রেখে আছেন ঢাবি শিক্ষক শেহরীন আমিন মোনামী। তবে ছবিটি ভুয়া। মহিউদ্দিন খান ও শেহরীন আমিন মোনামীর আলাদাভাবে তোলা দুটি ছবি সংগ্রহ করে এআই এর মাধ্যমে সম্পাদনা করে ভুয়া ছবিটি তৈরি করা হয়েছে।

— “ওরা ঢাবির শিক্ষক নামের ক/লঙ্ক, শিবিরের এজেন্ট, ভোট চো/র” শিরোনামে কালবেলার নামে ভুয়া ফটোকার্ড প্রচার

ডাকসু নির্বাচনের পর “ওরা ঢাবির শিক্ষক নামের ক/লঙ্ক, শিবিরের এজেন্ট, ভোট চো/র” শিরোনামে কালবেলার একটি ফটোকার্ড প্রচার করা হয়, যেখানে ঢাবি শিক্ষক মোনামীর ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। তবে কালবেলা এমন কোনো ফটোকার্ড প্রচার করেনি। এক্ষেত্রে, কালবেলার ফটোকার্ড এডিট করে ভুয়া তথ্য প্রচার করা হয়েছে।

— জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ককে জড়িয়ে এআই দিয়ে তৈরি ভিডিও প্রচার

ডাকসু নির্বাচনের পরদিন থেকে সামাজিকমাধ্যমে শেহরীন আমিন মোনামীর বক্তব্য দাবিতে একটি ভিডিও প্রচার করা হয়, যেখানে তাকে বলতে শোনা যায়, “তোমরা আমার পদত্যাগ চাচ্ছো, আমার পরিচয় কি তোমরা জানো না? আমার ছবি দেখোনি কার সাথে? ভলকার তুর্ক আমার সাথে আছে, তোমাদের আমার দরকার নাই।” তবে অনুসন্ধানে শিক্ষক মোনামীর এমন কোনো বক্তব্যের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ডাকসু ভোটের দিন ছাত্রদলের সঙ্গে ওই শিক্ষকের বাদানুবাদের একটি ভিডিওতে এআই ব্যবহার করে ভলকার তুর্ক সংক্রান্ত অংশ যুক্ত করা হয়েছে। প্রকৃত ভিডিওতে তিনি আসলে বলেছিলেন, “হামিম, তুমি আমাকে খুব ভালো করে চিনো, আমি বায়াসডনেস করছি না। সকাল থেকে সাংবাদিক ভাইরা দেখছে।”

— ঢাবি শিক্ষক মোনামী দাবিতে সম্পাদিত ও এআই-তৈরি ছবি প্রচার

ঢাবি শিক্ষক শেহরীন আমিন মোনামী দাবিতে বেশ কয়েকটি ছবি প্রচার করা হয়েছে, যেখানে তাকে বিকিনি পরে সমুদ্রতীরে দেখা যাচ্ছে। তবে এসব ছবি ভুয়া এবং এআই দিয়ে তৈরি।

— ভারতীয় মডেলের ছবিকে ঢাবি শিক্ষক মোনামী হিসেবে প্রচার

লাল টপ ও সাদা প্যান্ট পরা একটি ছবিকে ঢাবি শিক্ষক শেহরীন আমিন মোনামীর বলে প্রচার করা হয়েছে। তবে ছবিটি ভারতীয় মডেল সাইমা ভার্মার, যেটিকে এআই দিয়ে কিছুটা মুখাবয়ব পরিবর্তন করে ভুয়া দাবিতে ছড়ানো হয়েছে।

— ভিন্ন নারীর সম্পাদিত ছবিকে ঢাবি শিক্ষক মোনামীর ছবি দাবিতে প্রচার

সমুদ্রতীরে একটি ভাঙা গাছের ডালে বসে দাঁড়িয়ে থাকা ধূসর রঙের শর্ট স্লিভ টিশার্ট ও প্রিন্টেড লুজ প্যান্ট পরা এক নারীর ছবিকে শেহরীন আমিন মোনামীর ছবি বলে ব্যাপকভাবে প্রচার করা হয়েছে। তবে ছবিটি অন্য এক নারীর, যা ইন্টারনেট থেকে নিয়ে কিছুটা সম্পাদনা করে ভুয়া দাবিতে ছড়ানো হয়েছে।

— মোনামীর নেতৃত্বে ডাকসুতে ভোটচুরির দাবিতে কল রেকর্ড প্রচার

“ঢাবির শিবিরপন্থী শিক্ষিকা শেহরীন আমিন মোনামী এর নেতৃত্বে ডাকসুতে ব্যাপকভাবে ভোট চুরি” শিরোনামে দুজন অজ্ঞাত ব্যক্তির কয়েক সেকেন্ডের একটি কল রেকর্ড প্রচার করা হয়েছে, যেখানে ঢাবি শিক্ষক মোনামীর ছবিও ব্যবহার করা হয়েছে। কল রেকর্ডে কারা কথা বলছেন, তা স্পষ্ট করা হয়নি এবং উৎসও অনির্ভরযোগ্য। এছাড়াও কল রেকর্ড থেকে ভোট চুরির স্পষ্ট কোনো পাওয়া যায় না। এটি অনির্ভরযোগ্য ও ভিত্তিহীন দাবি হিসেবে প্রতীয়মান।

— মোবাইল কভার এর ডিজাইনকে সিম দাবিতে অপপ্রচার

ঢাবি শিক্ষক শেহরীন আমিন মোনামীর ফোনের কাভারের ডিজাইনকে তার অনেকগুলি সিম হিসেবে অপপ্রচার করা হয়েছে। পরে এক পোস্টে তিনি একটি ছবি যুক্ত করে এই অপপ্রচারের প্রেক্ষিতে সত্য তুলে ধরেন।

— ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম এবং শেহরীন আমিন মোনামীর লিপ্স কিসিংয়ের এআই ভিডিও প্রচার

ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম এবং ঢাবি শিক্ষক শেহরীন আমিন মোনামীর একটি ভিডিও প্রচার করা হয়েছে, যেখানে তাদের বসে থেকে লিপ্স কিসিং করতে দেখা যাচ্ছে। তবে, এই ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরি। তাদের একটি প্রোগ্রামে অতিথি হিসেবে পাশপাশি বসে থাকার একটি ছবি নিয়ে এআই দিয়ে বিকৃত ভিডিও তৈরি করা হয়েছে।

— ডাকসু জিএস ফরহাদ এবং শেহরীন আমিন মোনামীর হাগ করার এআই ভিডিও প্রচার

ডাকসু জিএস এসএম ফরহাদ এবং ঢাবি শিক্ষক শেহরীন আমিন মোনামীর আরেকটি ভিডিও প্রচার করা হয়েছে, যেখানে তাদের বসে আলিঙ্গন করতে দেখা যাচ্ছে। তবে, এই ভিডিওটিও এআই দিয়ে তৈরি। তাদের একটি প্রোগ্রামে পাশপাশি বসে থাকার ছবি থেকে এআই দিয়ে এই বিকৃত ভিডিও তৈরি করা হয়েছে।

ভুয়া তথ্য ও স্লাট শেমিংয়ে বিএনপি-আওয়ামী লীগ কর্মীদের জোট

ঢাবি শিক্ষিকা শেহরিন আমিন ভুঁইয়াকে বুলিং, স্লাট শেমিং করেছে এমন পেজ এবং আইডিগুলো বিশ্লেষণ করে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ পন্থী পেজ-গ্রুপ-আইডি পাওয়া গেছে। ওই শিক্ষিকাকে ‘প্রো শিবির’ কিংবা ‘শিবির সিম্প্যাথাইজার’ হিসেবে অভিযোগ তুলে তাকে আক্রমণের লক্ষ্য করা হয়েছে। এছাড়াও, ওই শিক্ষিকাকে জড়িয়ে প্রচারিত হওয়া ভুয়া তথ্য, ভুয়া ছবি কিংবা এআই ছবি-ভিডিও পোস্ট বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ওই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ভুয়া তথ্য ও অপপ্রচারের পেছনেও বিএনপি এবং আওয়ামী লীগ পন্থী পেজ এবং আইডি রয়েছে। এই শিক্ষিকার নামে ছড়ানো সকল ভুয়া তথ্যই উল্লেখিত দুই রাজনৈতিক দলের কর্মীরা শেয়ার করেছেন। 

ঢাবি শিবির নেতা এবং তার বিভাগের শিক্ষার্থী মহিউদ্দিন খানের প্রশংসা করা মন্তব্য, ডাকসু নির্বাচনের দিন টিএসসি কেন্দ্রে পক্ষপাতীত্বের অভিযোগে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বাকবিতণ্ডার শিকার হওয়া ইত্যাদি ঘটনার কারণে জামায়াত-শিবির সমর্থকরা সামাজিক মাধ্যমে ঢাবি শিক্ষিকা শেহরিন আমিন ভুঁইয়াকে সমর্থন দিয়ে থাকেন। তবে একই কারণে তিনি বিএনপি কর্মীদের স্লাট শেমিং ও অপপ্রচারের লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠেছেন। এছাড়াও, আওয়ামী লীগ কর্মীদের আক্রমণেরও লক্ষ্যবস্তু হন। আওয়ামী লীগের ক্ষেত্রে ‘প্রো শিবির’ অভিযোগের পাশাপাশি ওই শিক্ষিকার জুলাই গণঅভ্যুত্থানে থাকা ভূমিকাও তাকে তাদের আক্রমণের লক্ষ্যে পরিণত করেছে।

ঢাবি শিক্ষিকা মোনামীর বিরুদ্ধে একই অপপ্রচার: আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি’র প্রচারের কিছু নমুনা

ফেসবুক আইডিতে স্পামারদের সাইবার আক্রমণ

ঢাবি শিক্ষিকা শেহরিন আমিন মোনামী ফেসবুক আইডি ‘Shehrin Amin Bhuiyan’ ফেসবুক আইডিটি বর্তমানে ফেসবুকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান করতে গিয়ে JDC-cybersecurity Force Official নামের একটি ফেসবুক পেজের একটি পোস্ট খুঁজে পাওয়া যায়। 

ওই পোস্টে, “জাতীয়তাবাদী শক্তির বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কুৎসা রটনা ও বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শেহরিন আমিন ভুঁইয়া মোনামীর ফেসবুক আইডি টেকডাউন করা হয়েছে।” দাবি করে পেজটি আইডি ডিজেবল করার দায় স্বীকার করে।

পেজটি নিজেদের বিএনপি পন্থী হিসেবে উপস্থাপন করে এবং পেজের এবাউট সেকশন থেকে দেখা যায়, পেজটি দু’দিন আগে গত ৩ নভেম্বর খোলা হয়েছে। পেজের ওই পোস্টের কমেন্ট এবং শেয়ারগুলো পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, অধিকাংশ আইডিই আওয়ামী লীগ পন্থী। সিলেটের ছাত্রলীগ নেতা টেলেন্ট কান্তি দাস, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত ছাত্রলীগ কর্মী স্বপ্নীল খান প্রমুখ ওই পোস্টে কমেন্ট করেছেন। পেজটি নিজেদের বিএনপি হিসেবে তুলে ধরলেও, সবকিছু মিলিয়ে এটি আওয়ামী লীগপন্থীদের খোলা একটি পেজ হওয়ার প্রবল ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

ঢাবি শিক্ষিকা শেহরিন আমিন মোনামীর ফেসবুক আইডি আসলেই ডিজেবল হয়েছে কিনা জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, “গতকাল রাতে আমার আইডি হ্যাক করার চেষ্টা করা হয়েছিল। তাই আইডিটি ডিঅ্যাক্টিভ রেখেছি।”

ফেসবুকে এডিটেড-বিকৃত ছবি প্রচার এবং  অশালীন মন্তব্যের জেরে মামলা

এডিটের মাধ্যমে ছবি বিকৃত করে ফেসবুকে পোস্ট এবং অশালীন মন্তব্য প্রচারের অভিযোগে শাহবাগ থানায় গতকাল মামলা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সহকারী প্রক্টর শেহরীন আমিন ভুঁইয়া (মোনামি)। 

মামলায় তিনি এডিট করা আপত্তিকর ছবি প্রচার এবং ফেসবুকে তাকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ, অশালীন ও মানহানিকর মন্তব্য করার অভিযোগ করেছেন। মামলায় আসামি হিসেবে সাংবাদিক ও এক্টিভিস্ট মুজতবা খন্দকার, লেখক ও এক্টিভিস্ট মহিউদ্দিন মোহাম্মদ, ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী নিরব হোসাইন ও আশফাক হোসাইনের (ইভান) নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এর বাইরে অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিদেরও আসামি করা হয়েছে।

প্রথম আসামি সাংবাদিক ও এক্টিভিস্ট মুজতবা খন্দকার ঢাবি শিক্ষক মোনামীর নামে সমুদ্র সৈকতে বিকিনি পরিহিত তিনটি এআই দিয়ে বিকৃত করে তৈরি ছবি “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর মোনামি ইনি, পোশাকের স্বাধীনতায় পরেছেন বিকিনি” শিরোনামে পোস্ট করেছিলেন। তার এই পোস্ট ভাইরাল হলে পরবর্তীতে তিনি আইডি হ্যাক হয়েছিল বলে দাবি করেন।

এদিকে তার ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে গত ১ নভেম্বর ঢাবি শিক্ষক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া মোনামীকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করায় সাংবাদিক মুজতবা খন্দকারসহ দেশব্যাপী নারীদের নিয়ে অব্যাহত শ্লাটশেমিং ও করুচিপূর্ণ বক্তব্য দেওয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও মশাল মিছিল করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী।

দ্বিতীয় আসামী, মহিউদ্দিন মোহাম্মদ, ঢাবি শিক্ষক শেহরীন আমিনকে “যৌন-কল্পনার রসদ” ও “সারের দোকান” হিসেবে উল্লেখ করে একটি কুরুচিপূর্ণ ফটোকার্ড পোস্ট করেছিলেন। পরে তিনি পোস্টটি মুছে দেন, পুনরায় পোস্ট করেন এবং ফটোকার্ডটি স্থায়ীভাবে রাখার ঘোষণা দেন। তবে পরবর্তীতে তা আবার ডিলিট করেন। তিনি মামলার প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তৃতীয়বার ফটোকার্ডটি সংযুক্ত করে পোস্ট দেন এবং পরবর্তীতে আবার সরিয়ে ফেলেন। 

দ্বিতীয় পোস্টে তিনি দাবি করেন, প্রতিক্রিয়া দেখার জন্য তিনি তার এডমিনকে সাময়িকভাবে ওই ফটোকার্ডটি পোস্ট করতে বলেছিলেন। পরে ওই পোস্টে তিনি ফটোকার্ডটি স্থায়ীভাবে রাখার জন্য এডমিনকে অনুমতি দেন বলে উল্লেখ করেন। তবে দেখা গেছে, এটি কোনো পেজ নয়; বরং যুক্তরাষ্ট্র থেকে একজন ব্যক্তি দ্বারা পরিচালিত একটি প্রোফাইল থেকে পোস্ট করা হয়েছিল।

প্রথম পোস্টের ফটোকার্ডে ঢাবি শিক্ষিকার ছবি থাকলেও দ্বিতীয় ও তৃতীয় পোস্টে তিনি ফটোকার্ড থেকে সেই ছবিটি মুছে দিয়ে পোস্ট করেছিলেন। পরবর্তীতে আপডেটেড ফটোকার্ডটি প্রচার করে বিভিন্ন আওয়ামী লীগপন্থী পেজ থেকে “উনি তো পোস্টে কোন নাম বলেন নাই, ম্যাম জানলেন কেমনে উনারে বলছে?” কিংবা “চোরের মন পুলিশ পুলিশ” ধরনের নেতিবাচক মন্তব্য করা হয়।

“বিকৃত ক্যাপশনে ছোট ছোট ক্লিপ আপলোডও এক ধরনের হ্যারাসমেন্ট”

শাহাবাগ থানায় মামলা দায়েরের পর সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময়, ঢাবি শিক্ষক শেহরীন আমিন মোনামী “বিকৃত ক্যাপশনে ছোট ছোট ক্লিপ আপলোডও এক ধরনের হ্যারাসমেন্ট” বলে মন্তব্য করেছেন।

তিনি বলেন, “আমার মিডিয়ার কাছে একটা রিকোয়েস্ট আছে। এটা আমার কাছে খুবই দুঃখজনক। আই থিংক, আমি একলা না, আমার সাথে যত নারী শিক্ষার্থী আছে যারা এক্টিভিজম করে, তারা সবাই একই জিনিসের ভুক্তভোগী হচ্ছে। সেটা হচ্ছে যে বিকৃত ক্যাপশন দিয়ে ছোট ছোট ক্লিপস করে খুব ইরেলিভেন্ট জিনিস আপলোড করা হয়। যা খুবই আনকমফোর্টেবল এবং এক ধরনের হ্যারেসমেন্টও। রিলসগুলোতে অনেক ভিউজ আসে, অনেক এনগেজমেন্ট হয়, কিন্তু আপনাদের ভাবতে হবে সাংবাদিকতার জায়গা থেকে একটা রেসপন্সিবিলিটি জায়গা আপনাদের আছে। একটা ক্লিপ বের করে আপনার হয়তো তেমন সুবিধা নেই, কিন্তু এর মাধ্যমে আপনি একটা মানুষকে আনকম্ফোর্টেবল ফিল করাচ্ছেন। এই বিষয়টা দিন দিন আসলে বেড়েই চলছে, এমন এমন ক্যাপশন আসলে যেটার কোন মিনিং নেই, এমন ক্লিপস যেটার কোন কনটেন্ট নাই। হেঁটে যাচ্ছি, কথা বলছি,  হাঁটছি— এগুলো কোন ক্যাপশন হতে পারে না, নিউজ কন্টেন্ট হতে পারে না। তাই আমি বলব যে আপনারা যারা জার্নালিজম কমিউনিটিতে আছেন, যারা রেস্পন্সিবল, তারা প্লিজ এই বিষয়টাকে চেক এন্ড ব্যালেন্স এর মধ্যে আনেন। কারণ আপনাদের ওপর আমাদের অনেক ভরসা, আপনারা সত্যটা সবার সামনে আনবেন, সেখানে যদি এরকম কনটেন্টগুলো আসে, যেগুলোর আসলে কোন মেটেরিয়াল নাই, ক্রেডিবিলিটি নাই, ভালো কোনো মেসেজও নাই উল্টো হ্যারেসমেন্ট হয়ে যায়। তাহলে সেটা দুঃখজনক।”

এর আগে এমন সাংবাদিকতার উপর বিরক্ত হয়ে ডাকসু নির্বাচনের সময় গত ২৯ আগস্ট উমামা ফাতেমা লেখেন, “ক্যাম্পাসের ডাকসু নির্বাচনে ডিজিটাল মোবাইল জার্নালিজম পুরো নির্বাচনের পরিবেশকে নষ্ট করছে। প্রার্থীদের সাথে ভোটারদের কথা বলার সহজ স্বাভাবিক প্রসেসকে কঠিন করে দিচ্ছে। প্রার্থীদের পেছনে প্রতিটা পদক্ষেপ ভিডিও করতে থাকা কতটা সমীচীন দেখায় সেটা আমার প্রশ্ন! বারবার নিষেধ করার পরও সাংবাদিকদের এ ধরনের নীতি বহির্ভূত কার্যক্রম থামানো যাচ্ছে না। ব্যক্তির কনসেন্টের বাইরে গিয়ে ভিডিও করা, ক্রপ করে ভিডিও ভিন্ন এঙ্গেলে প্রদর্শন করার কাজ থামানো যায় না। সাংবাদিকদের কাছে অনুরোধ থাকবে আপনারা প্রার্থী ও ভোটারের প্রাইভেসি মেনে চলুন। ভোটার ও প্রার্থীর সম্মতির বাইরে অযাচিতভাবে ভিডিও করে ভোটের পরিবেশটা নষ্ট করবেন না।”

শেয়ার করুন: